Showing posts with label World In Danger. Show all posts
Showing posts with label World In Danger. Show all posts

Wednesday, 20 January 2016

ভূমিকম্পের আগাম আভাস দেওয়ার যন্ত্র এল ভারতের বাজারে

নয়াদিল্লি: ভারতের বাজারে ভূমিকম্পের আগাম আভাস দেওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন যন্ত্র নিয়ে এল জার্মানির একটি কোম্পানি। এই যন্ত্র সঙ্কেত দিলে কম্পনের আঁচ পেয়ে আগেভাগেই নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়া সম্ভব হবে বলে দাবি তাদের। সেটি বসাতে হবে বাড়িতে।
ইলেকট্রনিক্স জিএমবিএইচ নামে কোম্পানির এমডি জুরগেন প্রিজবায়লাক বলেছেন, আগাম ভূকম্পন সতর্কতা ও নিরাপত্তা সিস্টেম বসাতে হবে বাড়ির ভিতরে। সেটি কম্পনের প্রাথমিক তরঙ্গ চিহ্নিত করে সতর্ক করে দেবে। ভূমিকম্পের সময় পি অর্থাত প্রাথমিক তরঙ্গ প্রবাহিত হয় খুব মৃদু গতিতে। তারপরই আসে সেকেন্ডারি তরঙ্গ।
তিনি এও বলেছেন, বর্তমানে যে প্রযুক্তি আছে, তা কোনও ভূমিকম্পের প্রাথমিক তরঙ্গকে চিহ্নিত করতে পারে। এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই প্রাণ ও সম্পত্তি রক্ষা করতে নেমে পড়া যাবে।
প্রিজবায়লাকের দাবি, তাঁদের যন্ত্রটি দ্বিতীয় কম্পনতরঙ্গ বাড়িঘর কাঁপিয়ে দেওয়ার ৭০ সেকেন্ড আগেই সতর্কবার্তা দেবে। ফলে লোকজন বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসার জন্য বেশি সময় পাবেন।
হরিয়ানা সরকারের কাছ থেকে সংস্থাটি যন্ত্র সরবরাহের বরাত পেয়েছে।

মানুষের অস্তিত্বই সঙ্কটে, হুঁশিয়ারি হকিংয়ের

বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠেছে এই পৃথিবী। খেতে ফসল নেই। শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার উপযুক্ত হাওয়া নেই। তাই ভিন্‌ গ্রহে ‘উপনিবেশ’ গড়ার খোঁজে পৃথিবী ছেড়ে পাড়ি দিয়েছিল এক দল নভশ্চর। খুঁজেও পেয়েছিল। বছরখানেক আগে মুক্তি পাওয়া ক্রিস্টোফার নোলান পরিচালিত ‘ইন্টারস্টেলার’ ছবিটি দর্শককে নিয়ে গিয়েছিল এ রকমই এক কল্পবিজ্ঞানের জগতে।
পৃথিবীর বাইরে ঘর বাধার স্বপ্ন মানুষের অনেক দিনের। সেই স্বপ্নকে সত্যি করে তুলতে মহাকাশে ফোটাচ্ছে ফুলও। কিন্তু একই সঙ্গে চলছে উল্টো দৌড়। নানা ভাবে বিপন্ন করে তোলা হচ্ছে পৃথিবীকে। এই পথ থেকে সরে না এলে ভিন্গ্রহে বসত গড়ার আগেই হয়তো পৃথিবীতে মুছে যাবে মানুষের অস্তিত্ব, হুঁশিয়ার করলেন বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং। আজ বিবিসির ‘রিথ বক্তৃতা’ দেওয়ার আগে তিনি মনে করিয়ে দিলেন, ‘‘অন্য কোনও গ্রহে উপনিবেশ গড়ে তুলতে অন্তত একশো বছর লেগে যাবে। তত দিন অন্তত পৃথিবীটাকে বাসযোগ্য করে রাখি আমরা।’’ কী ভাবে তা সম্ভব, তার দাওয়াইও দিলেন তিনি। হকিংয়ের কথায়, ‘‘পৃথিবীর বিপদগুলিকে চিনে নিয়ে তাতে লাগাম টানতে হবে।’’
বিপদগুলি কী?
পরমাণু যুদ্ধ, পরিবেশ দূষণ, উষ্ণায়ন, জিন বদলানো ভাইরাস— তালিকাটি দীর্ঘ। হকিংয়ের বক্তব্য, একের পর এক দেশ তাদের অস্ত্রভাণ্ডারে মজুত করছে পরমাণু বোমা। বেহিসেবি জীবনযাপনের জন্য বেড়ে চলেছে জ্বালানি খরচ। যা বিষ ছড়াচ্ছে পরিবেশে। উন্নত দেশগুলির গবেষণাগারে গোপনে হয়ে চলেছে একের পর এক পরীক্ষা, রাসায়নিক বিক্রিয়া। যা জন্ম দিচ্ছে কালান্তক ভাইরাসের। আর এই সবই ছায়া ফেলছে মানবজাতির আয়ুতে।
তাহলে মানবজাতিকে এর থেকে বাঁচানোর উপায়? বিজ্ঞানী হিসেবেই তিনি  সাবধান করে দিয়েছেন বি়জ্ঞান গবেষণার ফলে ঘনিয়ে আসা সর্বনাশ নিয়ে। হকিংয়ের বক্তব্য, বি়জ্ঞান গবেষণাকে মুক্ত করতে হবে। সবার অগোচরে আর গবেষণা নয় নয়, পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা গবেষণা যা চলছে, তা জানাতে হবে সকলকে। বোঝাতে হবে মানুষকে।
কৃত্রিম ভাইরাস, বুদ্ধিমান কম্পিউটার কিংবা বিশ্ব উষ্ণায়ন যে সেই সব বিপদের নমুনা, তা তিনি বলে আসছেন দীর্ঘদিন ধরেই। আজও তিনি বলেন, ‘‘এক বছরের মাপকাঠিতে হয়তো এই বিপদের মাত্রা হিসেব করা যাবে না। কিন্তু একসঙ্গে অনেকগুলো বছর— হাজার কিংবা দশ হাজার বছরে— বিপদ প্রায় নিশ্চিত। তার আগে যদি মানুষ অন্য কোনও গ্রহে উপনিবেশ গড়ে তুলতে পারে, চলে যেতে পারে অন্য কোনও নক্ষত্রের আশপাশে, তা হলে হয়তো পৃথিবীতে সর্বনাশ ঘনিয়ে এলেও মহাবিশ্ব থেকে মানুষ নিশ্চিহ্ন হবে না।’’
তবে এখনই আস্থা হারাচ্ছেন না কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিজ্ঞানী। এক দিকে যেমন তিনি দেখতে পাচ্ছেন, পৃথিবীর বিকল্প না খুঁজে পেলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে মানুষ, তেমনি তাঁর বিশ্বাস, মানুষই পারবে এই বিপদ নিয়ন্ত্রণ করতে। তাই যাঁরা বি়জ্ঞানী হতে চান, তাঁদের জন্য হকিংয়ের পরামর্শ, গবেষণা কোন পথে এগিয়ে চলেছে তা জনসাধারণকে জানানোর দায়িত্ব তাঁদেরই নিতে হবে। এটাও দেখতে হবে যে, গবেষণার অগ্রগতি যেন ঠিক পথে এগোয়। গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় যদি সকলের বিজ্ঞান সম্পর্কে সাধারণ ধারণা থাকে তবেই তা সম্ভব।
বিজ্ঞানীদের হকিংয়ের তাই পরামর্শ, ‘‘জনগণকে সোজা ভাষায় জানান, আপনি কী করতে চাইছেন, কে জানে, এর ফলে আপনিই হয়তো ভাল করে চিনবেন নিজেকে।’’